👀জসিম মাহমুদ👀
ডিসেম্বর মাসেই (নির্বাচনের আগেই) আরও একটি ব্যাংকের অনুমোদনের কাজ সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ ব্যাংকটির নাম বেঙ্গল ব্যাংক।
গত মঙ্গলবার (১১ ডিসেম্বর) রাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড সভায় এই ব্যাংকের অনুমোদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়। নতুন এই ব্যাংকটির অনুমোদনের ব্যাপারে বোর্ডের সব সদস্যই রাজি হয়েছেন। তবে ব্যাংকটির লাইসেন্স পেতে আগামী বোর্ডসভার কাছ থেকে লেটার অব ইনটেন্ট নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবিরের সভাপতিত্বে এই বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় পিপলস ব্যাংক ও সিটিজেন ব্যাংক নামে আরও দুটি ব্যাংক অনুমোদনের জন্য তোলা হলেও এ দুটির ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এর আগে গত অক্টোবরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ বোর্ড সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পায় পুলিশ সদস্যদের মালিকানায় ‘কমিউনিটি ব্যাংক অব বাংলাদেশ’। ওই সভায় এজেন্ডাভুক্ত তিন ব্যাংকের কিছু কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় অনুমোদনের জন্য শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। শর্তগুলো পূরণ হওয়ায় এই বোর্ড সভায় বেঙ্গল ব্যাংককে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

বেঙ্গল ব্যাংকের প্রধান উদ্যোক্তা বেঙ্গল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান মো. জসিম উদ্দিন। দেশে তাদের প্লাস্টিক শিল্পসহ বিভিন্ন ব্যবসা রয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের ভাই।
দ্য সিটিজেন ব্যাংকের মালিক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মা জাহানারা হক। পিপলস ব্যাংকের উদ্যোক্ত চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের বাসিন্দা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা এম এ কাশেম।
এর আগে গত ২৫ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বনির্ধারিত বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও একজন পর্ষদ সদস্য দেশের বাইরে থাকায় তা স্থগিত হয়। ওই সভায়ও তিনটি ব্যাংকের অনুমোদনের বিষয়টি এজেন্ডাভুক্ত ছিল।
পর্ষদে তিনটি ব্যাংকের আবেদনের বিষয়ে এজেন্ডা থাকলেও বাকি দুটি ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডার পবিবর্তন ও কর-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ফিরিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই দুই ব্যাংক হলো- পিপলস ব্যাংক ও সিটিজেন ব্যাংক।
‘বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড শুরুতে ‘বাংলা ব্যাংক’ নামেই অনুমোদনের আবেদন জমা দেয়া হয়েছিল। দেশে তাদের প্লাস্টিক শিল্পসহ বিভিন্ন ব্যবসা রয়েছে। তিনি আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মোরশেদ আলমের ভাই।
দ্য সিটিজেন ব্যাংকের মালিক হলেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের মা জাহানারা হক। সিটিজেন ব্যাংকের প্রস্তাবে কিছু ঘাটতি রয়েছে। সেগুলা ঠিকঠাক করে উপস্থাপন করতে নির্দেশনা দেয়া হয় আগের বোর্ড সভায়।এই সভায় নীতিগত অনুমোদন মেলেনি এই ব্যাংকের।

পিপলস ব্যাংকের উদ্যোক্ত চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের বাসিন্দা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা এম এ কাশেম।

কেন্দীয় ব্যাংক বলছে, প্রবাসী কাশেমের বিদেশে কী পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেটি বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠালে তা পর্ষদে উপস্থাপন করা হবে। পর্ষদ সেটি বিবেচনা করে ব্যাংক স্থাপনের আগ্রহপত্র দেবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। পর্ষদের অন্য সদস্যরা হলেন— জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম, অর্থ সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস এম মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক ড. রুশিদান ইসলাম রহমান, ইসলাম আফতাব কামরুল অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসের এ কে এম আফতাব উল ইসলাম এফসিএ এবং বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামালউদ্দিন আহমেদ।

গত ২৫ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্বনির্ধারিত বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও একজন পর্ষদ সদস্য দেশের বাইরে থাকায় তা স্থগিত হয়। ওই সভায়ও এই তিনটি ব্যাংকের অনুমোদনের বিষয়টি এজেন্ডাভুক্ত ছিল।

এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রথম মেয়াদে নয়টি ব্যাংকের লাইসেন্স দেয়া হয়। সেগুলোর বেশির ভাগই খারাপ অবস্থার মধ্যে আছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচন সামনে রেখে উদ্যোক্তারা সরকারের ওপর এ বিষয়ে এক ধরনের চাপ তৈরি করেন। কারণ নির্বাচনের আগে অনুমোদন না পেলে পরবর্তীতে হয়তো বিষয়টি ফাইলবন্দি হয়ে যাবে। তাই উদ্যোক্তাদের লবিংয়ে ও সরকারের চাপে বাংলাদেশ ব্যাংক এ ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়।

SHARE